রিপাবলিকানদের এলাকায় আছড়ে পড়ছে ডেমোক্র্যাটিক ঢেউ

ছবির উৎস, Reuters
- Author, অ্যান্থনি জার্কার
- Role, উত্তর আমেরিকা সংবাদদাতা
- Published
- পড়ার সময়: ৩ মিনিট
ডেমোক্র্যাটদের জন্য এটি এরই মধ্যে একটি ঐতিহাসিক রাত হয়ে উঠছে, কারণ দলটি মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ জয় করেছে এবং সেনেটের নিয়ন্ত্রণও নিজেদের হাতে আনার পথে রয়েছে।
ডেমোক্র্যাটরা সিনেটে তাদের প্রথম চমকপ্রদ জয়টি অর্জন করে, যখন অ্যানি অ্যান্ড্রুস পরাজিত করেন ডারলাইন গ্রাহামকে, যাকে তার ভাই সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যুর পর এই আসনে নিযুক্ত করা হয়েছিল।
কয়েক মাস আগেও খুব কম বিশ্লেষকই ভেবেছিলেন যে ওই আসনটি নিয়ে প্রতিযোগিতা হবে।
এক বছর আগে যে দুটি সিনেট আসনকে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছিল, সেগুলো ডেমোক্র্যাটদের জন্য নিশ্চিত বিজয়ে পরিণত হয়েছে, একটি হলো জর্জিয়ায় জন অসফের পুনঃনির্বাচন এবং অন্যটি নর্থ ক্যারোলাইনার রিপাবলিকানদের দখলে থাকা উন্মুক্ত আসনটি।
নর্থ ক্যারোলাইনার সেই প্রতিযোগিতাটি, যেখানে প্রাক্তন ডেমোক্র্যাটিক গভর্নর রয় কুপার রিপাবলিকান পার্টির প্রভাবশালী নেতা মাইকেল হোয়াটলিকে পরাজিত করেন, সেটি ছিল সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য ডেমোক্র্যাটদের প্রয়োজনীয় চারটি আসনের মধ্যে প্রথমটি।
সাউথ ক্যারোলাইনার জয় নিশ্চিত হওয়ায়, তারা লক্ষ্যের অর্ধেক পথ এগিয়ে গেছে।
এখন টেক্সাস, কানসাস ও ওহাইওতে রিপাবলিকানদের দখলে থাকা সিনেট আসনগুলোর ভোট গণনার দিকে সবার দৃষ্টি ঘুরেছে।
বিবিসির মার্কিন সহযোগী সিবিএস নিউজ টেক্সাস ও কানসাসের সিনেট নির্বাচনকে ডেমোক্র্যাট-ঝোঁক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। টেক্সাসের গভর্নর নির্বাচন, যেখানে গত বছর পর্যন্তও ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান গ্রেগ অ্যাবট অপ্রতিরোধ্য ফেভারিট ছিলেন, এখন একটি অনিশ্চিত ফলাফলযুক্ত নির্বাচন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এদিকে, ডেমোক্র্যাটরা ২০২২ সালের পর প্রথমবারের মতো প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।
গুরুত্বপূর্ণ রেসগুলোর দিকে তাকালে এর অনেক কারণ খুঁজে পাওয়া যায়।

ছবির উৎস, Reuters
ফ্লোরিডায়, রাজ্য আইনসভার রিপাবলিকানরা ডেমোক্র্যাটদের দখলে থাকা তিনটি আসনের সীমানা নতুন করে নির্ধারণ করেছিল, যাতে তাদের জয়লাভ করা অনেক সহজ হয়ে যায়।
তারা তিনটিতেই হেরেছে।
রাজ্যে প্রতিনিধি পরিষদের অন্যান্য আসনে, যেখানে রিপাবলিকানরা বড় ব্যবধানে জেতার আশা করেছিল, সেগুলোও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।
উদাহরণস্বরূপ, ডেমোক্র্যাটরা পশ্চিম উত্তর ক্যারোলাইনা এবং কেন্টাকির উন্মুক্ত আসনগুলোয় জয়লাভ করেছে এবং ভার্জিনিয়া ও ইন্ডিয়ানায় লাভবান হওয়ার মতো সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
তারা এটা করছে ডেমোক্র্যাটদের বিপুল ভোটদানের হারকে কাজে লাগিয়ে, বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের এবং ফ্লোরিডার সেই হিস্পানিক ভোটারদের পুনরায় নিজেদের পক্ষে এনে, যারা মাত্র দুই বছর আগেও রিপাবলিকানদের সমর্থন করেছিল।
End of বিবিসি বাংলায় আরো পড়তে পারেন:

ছবির উৎস, Reuters
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
দক্ষিণ ক্যারোলাইনার কৃষ্ণাঙ্গ-সংখ্যাগরিষ্ঠ কাউন্টিগুলোয়, ডেমোক্র্যাটিক সিনেট প্রার্থী অ্যান্ড্রুস ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কমালা হ্যারিসের প্রাপ্ত ভোটের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে ভালো ফল করেন।
আর মিয়ামি-ডেড কাউন্টিতে, যেখানে ট্রাম্প সেই বছর জিতেছিলেন, ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থীরা আবার শীর্ষে ফিরে এসেছেন।
রক্ষণশীলদের জন্য যদি কোনো আশার আলো থেকেও থাকে, তা হলো সামগ্রিকভাবে ফ্লোরিডা এখনও ডানপন্থি ঝোঁক বজায় রেখেছে বলেই মনে হয়।
রিপাবলিকান সিনেটর অ্যাশলি মুডি অল্প ব্যবধানে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন, যেমনটা হয়েছেন কংগ্রেসম্যান বায়রন ডোনাল্ডসও, যিনি গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। কিন্তু এই সানশাইন স্টেটটিই হয়তো কয়েকটি আশার আলোর মধ্যে অন্যতম হয়ে উঠবে।
যদিও ভোটারদের মনোভাব সার্বিকভাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে চলে গেছে বলে মনে হচ্ছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্বতন্ত্র ভৌগোলিক ও জনতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন একটি বিশাল দেশ।
পূর্বাঞ্চলে ডেমোক্র্যাটদের জন্য একটি ভালো রাত মানেই এই নয় যে সারাদেশেও একই রকম ফলাফল হবে। কিন্তু আমেরিকার কেন্দ্রভূমির প্রাথমিক ফলাফল পূর্ব উপকূলের ধারা অনুসরণ করছে বলেই মনে হচ্ছে।
দিগন্তে একটি ডেমোক্র্যাটিক ঢেউ তৈরি হয়েছে। এখন শুধু দেখার বিষয়, এই ঢেউ রিপাবলিকানদের এলাকায় ঠিক কতটা আছড়ে পড়বে।









