যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে সারাদিন যা যা হলো
- ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধই ছিল তাদের দলের পরাজয়ের প্রধান কারণ, রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারের পর দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এ কথা লিখেছেন।
- ডেমোক্র্যাটদের এই ভূমিধস জয়ের পর রিপাবলিকান দলের ভেতরে কী ধরনের চিন্তা- ভাবনা চলছে, দলটির একজন স্ট্র্যাটেজিস্ট বা কৌশলবিদের কাছে এই প্রশ্ন করেছিল বিবিসি।
- ডেমোক্র্যাটরা রিপ্রেজেন্টেটিভস হাউসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর, হাউস মাইনোরিটি লিডার হাকিম জেফ্রিস এখন প্রতিনিধি পরিষদের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন। মি. জেফ্রিস বলেন, গত রাতের এই নীল ঢেউ বা ডেমোক্র্যাটদের জোয়ার ছিল “সারা দেশের আমেরিকান জনগণের জন্য একটি অবিশ্বাস্য বিজয় এবং মাগা চরমপন্থার বিরুদ্ধে এক তীব্র প্রত্যাখ্যান।”
- ডেমোক্র্যাটদের এই বড় জয়ের পর বুধবার সকালে হোয়াইট হাউস থেকে প্রথম মন্তব্য করা হয়েছে। ছবিটির সাথে জনস্বার্থে একটি বার্তা হিসেবে লেখা হয়েছে, “জনস্বার্থে বার্তা: ট্রাম্প এখনো আপনাদের প্রেসিডেন্ট।”
- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের কার্যক্রম আমেরিকার বহু নাগরিককেই হতাশ করেছে, যারা আশা করেছিলেন নিত্যপণ্যের দাম কমিয়ে আনবেন। এই নির্বাচনে ভোট দিতে যাওয়ার পেছনে মার্কিন ভোটারদের কাছে সবচেয়ে বড় ইস্যুই ছিল দেশের অর্থনীতি।
- যুক্তরাষ্ট্রের এই মধ্যবর্তী নির্বাচন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে তাদের পরাজয়ের ক্ষেত্রে ইরান যুদ্ধ এবং জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ভূমিকা রেখেছে।
- যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে বড়ভাবে ছায়া ফেলেছেন দেশটির বিলিয়নেয়ার ব্যবসায়ী ইলন মাস্ক। নির্বাচনী অর্থায়ন পর্যবেক্ষণকারী স্বাধীন সংস্থা ওপেন সিক্রেটস এর তথ্য অনুযায়ী, রিপাবলিকান প্রার্থীদেরকে সমর্থন করার জন্য মধ্যবর্তী নির্বাচনে অন্তত ৪৫৫ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছেন তিনি।
- যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা টেক্সাস, ওহাইও এবং কানসাসসহ রিপাবলিকান ঘাঁটিগুলোতে একের পর এক বিজয় তুলে নিয়েছেন।
- যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল ক্রেমলিনের ওপর কী প্রভাব ফেলবে? "প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার মেয়াদের শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট থাকবেন এবং তার পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করবেন," প্রেসিডেন্ট পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সোমবার বিবিসিকে একথা জানিয়েছিলেন।
- সিবিএসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মিশিগানের সেনেট আসনটি ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদের দখলে যাচ্ছে।
- যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, তার দলের ব্যাপক বিজয় প্রমাণ করে যে আমেরিকানরা পরিবর্তন চায়।
- সেনেট এবং প্রতিনিধি পরিষদ উভয় ক্ষেত্রেই ডেমোক্র্যাটরা এখন সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এর অর্থ হলো, জানুয়ারি থেকে তারা আবার কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে ফিরে আসবে, যা দেশটির আইন প্রণয়নের দায়িত্বে থাকা সরকারি শাখা।
- হাওয়াইয়ে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ২০২৬ সালের যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের শেষ ভোটকেন্দ্রও বন্ধ হলো। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের কাছ থেকে সেনেট এবং প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করতে যাচ্ছে।
- যুক্তরাষ্ট্রে বিবিসি’র সহযোগী গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান সিবিএস-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) ডেমোক্র্যাটরা অন্তত ২৩৯টি আসন এবং রিপাবলিকানরা অন্তত ১৬১টি আসন জিতবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
- "আমি ব্যালটে ছিলাম না, আর যদি থাকতাম, তাহলে আমরা বিপুল ভোটে জিতে যেতাম!" সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এই পোস্টের মাধ্যমে ট্রাম্প তার দল থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছেন এবং ক্রমবর্ধমান নির্বাচনী পরাজয়ের দায় রিপাবলিকান প্রার্থীদের উপর চাপিয়েছেন বলে মনে হচ্ছে।
- রিপাবলিকান পার্টির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কিছু আসনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের জয়ের পর, নিউ ইয়র্ক টাইমসকে নতুন প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন তিনি, “এই ফলাফলগুলো মেনে নিতে পুরোপুরি ইচ্ছুক” এবং বিরোধী দলের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।
- যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি পরাজয়ের মুখে পড়ার পর, প্রথমবারের মতো মন্তব্যে নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, "আমি ব্যালটে ছিলাম না, আর যদি থাকতাম, তাহলে আমরা বিপুল ভোটে জিতে যেতাম!"
- যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে এখনো মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোট গণনা চলছে। চারটি অঙ্গরাজ্যে এবার বেশ কিছু নতুন ইতিহাস যেটা প্রথমবারের মতো সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল সাইয়েদ প্রথম মুসলিম মার্কিন সেনেটর, জর্জিয়ার গভর্নর পদে কেইশা ল্যান্স বটমস যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর, সেনেটে দায়িত্ব পালনকারী প্রথম প্রকাশ্য সমকামী পুরুষ হতে চলেছেন নিউ হ্যাম্পশায়ারের ক্রিস পাপাস এবং ডেব হাল্যান্ড নিউ মেক্সিকোতে জয়লাভের মাধ্যমে প্রথম আদিবাসী আমেরিকান নারী গভর্নর নির্বাচিত হয়েছেন।
বিবিসি বাংলার লাইভপাতা আজ এখানেই শেষ হলো।
অন্যান্য খবর পড়তে মূলপাতায় ক্লিক করুন।
এতক্ষণ সঙ্গে থাকার জন্য ধন্যবাদ।