আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন

আমাকে মূল ওয়েবসাইটে/সংস্করণে নিয়ে যান

এই ডেটা-সাশ্রয়ী সংস্করণ সম্পর্কে আরও জানুন

‘আমাদের পরাজয়ের কারণ হলো যুদ্ধ,’ মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় হারের পর বললেন জেডি ভ্যান্স

সেনেট ও হাউস দু্ই জায়গাতেই ডেমোক্র্যাট দল বিজয়ী হয়েছে, তাই ট্রাম্পের বাকি মেয়াদের জন্য কংগ্রেসের উচ্চ ও নিম্নকক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধই ছিল তাদের দলের পরাজয়ের প্রধান কারণ, রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারের পর দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এ কথা লিখেছেন।

সরাসরি কভারেজ

রিপোর্টিংয়ে জান্নাতুল তানভী, সম্পাদনায় সায়েদুল ইসলাম

  1. যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে সারাদিন যা যা হলো

    • ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধই ছিল তাদের দলের পরাজয়ের প্রধান কারণ, রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারের পর দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এ কথা লিখেছেন।
    • ডেমোক্র্যাটদের এই ভূমিধস জয়ের পর রিপাবলিকান দলের ভেতরে কী ধরনের চিন্তা- ভাবনা চলছে, দলটির একজন স্ট্র্যাটেজিস্ট বা কৌশলবিদের কাছে এই প্রশ্ন করেছিল বিবিসি।
    • ডেমোক্র্যাটরা রিপ্রেজেন্টেটিভস হাউসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর, হাউস মাইনোরিটি লিডার হাকিম জেফ্রিস এখন প্রতিনিধি পরিষদের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন। মি. জেফ্রিস বলেন, গত রাতের এই নীল ঢেউ বা ডেমোক্র্যাটদের জোয়ার ছিল “সারা দেশের আমেরিকান জনগণের জন্য একটি অবিশ্বাস্য বিজয় এবং মাগা চরমপন্থার বিরুদ্ধে এক তীব্র প্রত্যাখ্যান।”
    • ডেমোক্র্যাটদের এই বড় জয়ের পর বুধবার সকালে হোয়াইট হাউস থেকে প্রথম মন্তব্য করা হয়েছে। ছবিটির সাথে জনস্বার্থে একটি বার্তা হিসেবে লেখা হয়েছে, “জনস্বার্থে বার্তা: ট্রাম্প এখনো আপনাদের প্রেসিডেন্ট।”
    • যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের কার্যক্রম আমেরিকার বহু নাগরিককেই হতাশ করেছে, যারা আশা করেছিলেন নিত্যপণ্যের দাম কমিয়ে আনবেন। এই নির্বাচনে ভোট দিতে যাওয়ার পেছনে মার্কিন ভোটারদের কাছে সবচেয়ে বড় ইস্যুই ছিল দেশের অর্থনীতি।
    • যুক্তরাষ্ট্রের এই মধ্যবর্তী নির্বাচন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে তাদের পরাজয়ের ক্ষেত্রে ইরান যুদ্ধ এবং জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ভূমিকা রেখেছে।
    • যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে বড়ভাবে ছায়া ফেলেছেন দেশটির বিলিয়নেয়ার ব্যবসায়ী ইলন মাস্ক। নির্বাচনী অর্থায়ন পর্যবেক্ষণকারী স্বাধীন সংস্থা ওপেন সিক্রেটস এর তথ্য অনুযায়ী, রিপাবলিকান প্রার্থীদেরকে সমর্থন করার জন্য মধ্যবর্তী নির্বাচনে অন্তত ৪৫৫ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছেন তিনি।
    • যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা টেক্সাস, ওহাইও এবং কানসাসসহ রিপাবলিকান ঘাঁটিগুলোতে একের পর এক বিজয় তুলে নিয়েছেন।
    • যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল ক্রেমলিনের ওপর কী প্রভাব ফেলবে? "প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার মেয়াদের শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট থাকবেন এবং তার পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করবেন," প্রেসিডেন্ট পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সোমবার বিবিসিকে একথা জানিয়েছিলেন।
    • সিবিএসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মিশিগানের সেনেট আসনটি ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদের দখলে যাচ্ছে।
    • যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, তার দলের ব্যাপক বিজয় প্রমাণ করে যে আমেরিকানরা পরিবর্তন চায়।
    • সেনেট এবং প্রতিনিধি পরিষদ উভয় ক্ষেত্রেই ডেমোক্র্যাটরা এখন সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এর অর্থ হলো, জানুয়ারি থেকে তারা আবার কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে ফিরে আসবে, যা দেশটির আইন প্রণয়নের দায়িত্বে থাকা সরকারি শাখা।
    • হাওয়াইয়ে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ২০২৬ সালের যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের শেষ ভোটকেন্দ্রও বন্ধ হলো। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের কাছ থেকে সেনেট এবং প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করতে যাচ্ছে।
    • যুক্তরাষ্ট্রে বিবিসি’র সহযোগী গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান সিবিএস-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) ডেমোক্র্যাটরা অন্তত ২৩৯টি আসন এবং রিপাবলিকানরা অন্তত ১৬১টি আসন জিতবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
    • "আমি ব্যালটে ছিলাম না, আর যদি থাকতাম, তাহলে আমরা বিপুল ভোটে জিতে যেতাম!" সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এই পোস্টের মাধ্যমে ট্রাম্প তার দল থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছেন এবং ক্রমবর্ধমান নির্বাচনী পরাজয়ের দায় রিপাবলিকান প্রার্থীদের উপর চাপিয়েছেন বলে মনে হচ্ছে।
    • রিপাবলিকান পার্টির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কিছু আসনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের জয়ের পর, নিউ ইয়র্ক টাইমসকে নতুন প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন তিনি, “এই ফলাফলগুলো মেনে নিতে পুরোপুরি ইচ্ছুক” এবং বিরোধী দলের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।
    • যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি পরাজয়ের মুখে পড়ার পর, প্রথমবারের মতো মন্তব্যে নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, "আমি ব্যালটে ছিলাম না, আর যদি থাকতাম, তাহলে আমরা বিপুল ভোটে জিতে যেতাম!"
    • যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে এখনো মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোট গণনা চলছে। চারটি অঙ্গরাজ্যে এবার বেশ কিছু নতুন ইতিহাস যেটা প্রথমবারের মতো সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল সাইয়েদ প্রথম মুসলিম মার্কিন সেনেটর, জর্জিয়ার গভর্নর পদে কেইশা ল্যান্স বটমস যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর, সেনেটে দায়িত্ব পালনকারী প্রথম প্রকাশ্য সমকামী পুরুষ হতে চলেছেন নিউ হ্যাম্পশায়ারের ক্রিস পাপাস এবং ডেব হাল্যান্ড নিউ মেক্সিকোতে জয়লাভের মাধ্যমে প্রথম আদিবাসী আমেরিকান নারী গভর্নর নির্বাচিত হয়েছেন।

    বিবিসি বাংলার লাইভপাতা আজ এখানেই শেষ হলো।

    অন্যান্য খবর পড়তে মূলপাতায় ক্লিক করুন।

    এতক্ষণ সঙ্গে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

  2. ‘আমাদের পরাজয়ের কারণ হলো যুদ্ধ,’ বললেন জেডি ভ্যান্স

    ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধই ছিল তাদের দলের পরাজয়ের প্রধান কারণ, রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারের পর দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এ কথা লিখেছেন।

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স এ এক দীর্ঘ পোস্টে এই প্রতিক্রিয়া দেন তিনি।

    তিনি বলেন, “আমাদের পরাজয়ের কারণ হলো যুদ্ধ।”

    “সবাই জানে কেন আমরা হেরেছি। আর এখান থেকে আমরা কীভাবে সামনে এগোব, সেটা যে কোনো সৎ আলোচনা থেকেই শুরু হতে হবে,” এক্স এ লিখেছেন মি. ভ্যান্স।

  3. ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর ‘বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার’ পরামর্শ রিপাবলিকান স্ট্র্যাটেজিস্টের

    ডেমোক্র্যাটদের এই ভূমিধস জয়ের পর রিপাবলিকান দলের ভেতরে কী ধরনের চিন্তা- ভাবনা চলছে, দলটির একজন স্ট্র্যাটেজিস্ট বা কৌশলবিদের কাছে এই প্রশ্ন করেছিল বিবিসি।

    প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর ট্রাম্প-ভ্যান্স ট্রানজিশন টিমে কাজ করা রিপাবলিকান স্ট্র্যাটেজিস্ট মার্ক বেডনার বিবিসিকে জানান, এটা স্পষ্ট যে তাদের দল “২০২৪ সালে ঐতিহাসিক জয় এনে দেওয়া ট্রাম্পের সেই ভোটার জোটকে এবার উজ্জীবিত করতে পারেনি।”

    তিনি বলেন, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার পর ডেমোক্র্যাটরা তাদের সিংহভাগ শক্তি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিভিন্ন তদন্ত পরিচালনা করতে ব্যয় করবে। এমনকি তার বিরুদ্ধে অভিশংসন বা ইমপিচমেন্টের চেষ্টাও করবে।

    “তাদের নিজেদের দলেও অভ্যন্তরীণ কোন্দল রয়েছে, যা সামনে আরো বাড়বে” বলেন বেডনার।

    তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “রিপাবলিকানদের এখন এই বাস্তবতার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হবে যে, একাই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে টানার মূল চালিকাশক্তি হতে পারেন না।”

  4. জীবনযাত্রার খরচ কমানো ডেমোক্র্যাটদের লক্ষ্য এবং ট্রাম্পকে যুদ্ধ থামাতে হবে: জেফ্রিস

    ডেমোক্র্যাটরা রিপ্রেজেন্টেটিভস হাউসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর, হাউস মাইনোরিটি লিডার হাকিম জেফ্রিস এখন প্রতিনিধি পরিষদের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন।

    যুক্তরাষ্ট্রের একটি গণমাধ্যম এমএস নাউ এর জো স্কারবোরোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেফ্রিস বলেন, গত রাতের এই নীল ঢেউ বা ডেমোক্র্যাটদের জোয়ার ছিল “সারা দেশের আমেরিকান জনগণের জন্য একটি অবিশ্বাস্য বিজয় এবং মাগা চরমপন্থার বিরুদ্ধে এক তীব্র প্রত্যাখ্যান।”

    তার দলের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে এমন এক প্রশ্নের জবাবে জেফ্রিস বলেন, “আমরা জীবনযাত্রার ব্যয় সাশ্রয়ের ইস্যুতে জয় পেয়েছি, আর এখন আমাদের কাজ হলো সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ করার লক্ষ্যে সরকার পরিচালনা করা।”

    এরপর কংগ্রেসে প্রেসিডেন্টের অগ্রাধিকার কী হওয়া উচিত স্কারবোরোর এমন প্রশ্নের উত্তরে জেফ্রিস বলেন, আগামী জানুয়ারি মাসে নতুন কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ইরানের সাথে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে।

    “গত সন্ধ্যায় আমেরিকার জনগণ অত্যন্ত স্পষ্ট যে বার্তাটি দিয়েছে, এটি ছিল তার মধ্যে অন্যতম,” বলেন হাকিম জেফ্রিস।

  5. ‘ট্রাম্প এখনো আপনাদের প্রেসিডেন্ট’, সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখলো হোয়াইট হাউস

    ডেমোক্র্যাটদের এই বড় জয়ের পর বুধবার সকালে হোয়াইট হাউস থেকে প্রথম মন্তব্য করা হয়েছে।

    হোয়াইট হাউসের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ছবি পোস্ট করা হয়েছে। যেখানে ট্রাম্পকে তার ওভাল অফিসের রিজোলিউট ডেস্কের ওপর ঝুঁকে থাকতে দেখা যাচ্ছে।

    ছবিটির সাথে জনস্বার্থে একটি বার্তা হিসেবে লেখা হয়েছে, “জনস্বার্থে বার্তা: ট্রাম্প এখনো আপনাদের প্রেসিডেন্ট।”

    সকালে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর এর প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প স্বীকার করেছিলেন, ডেমোক্র্যাটরা “ভালো কাজ করেছে।”

    তবে তিনি আরো দাবি করেন, ব্যালটে যদি তার নাম থাকত, তাহলে রিপাবলিকান প্রার্থীরা আরো ভালো ফল করতে পারতো।

  6. ট্রাম্পের নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের যে চিত্র

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের কার্যক্রম আমেরিকার বহু নাগরিককেই হতাশ করেছে, যারা আশা করেছিলেন নিত্যপণ্যের দাম কমিয়ে আনবেন।

    এই নির্বাচনে ভোট দিতে যাওয়ার পেছনে মার্কিন ভোটারদের কাছে সবচেয়ে বড় ইস্যুই ছিল দেশের অর্থনীতি।

    তাহলে ট্রাম্পের নীতিগুলো মার্কিন মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর ঠিক কী প্রভাব ফেলেছে?

    গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর মার্কিন বিমান হামলার পর থেকেই গ্যাস এবং ডিজেলের দাম ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

    ডিজেলের ক্ষেত্রে অক্টোবর মাসে গড় দাম দাঁড়িয়েছিল প্রতি গ্যালনে ছয় দশমিক ২৫ ডলার। যা এ যাবতকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড। এমনকি ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তেলের দাম যে পর্যায়ে পৌঁছেছিল, এই দাম তার চেয়েও বেশি।

    ২০২৪ সালে দ্বিতীয় মেয়াদের নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, গ্যাসের দাম প্রতি গ্যালনে দুই ডলারের নিচে নামিয়ে আনবেন।

    তবে গত অক্টোবর মাসে এর গড় দাম ছিল চার দশমিক ৩১ ডলার। ইরানের সঙ্গে ট্রাম্পের এই যুদ্ধের প্রভাব মার্কিন ভোক্তা মূল্যস্ফীতির সার্বিক হারের ওপর স্পষ্টভাবে পড়েছে। সেপ্টেম্বরে বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন দশমিক সাত শতাংশে।

    অর্থনীতিবিদদের মতে, ২০২৫ সালের দোসরা এপ্রিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের “লিবারেশন ডে” শুল্কের (আমদানি করা পণ্যের উপর বসানো ট্যাক্স) কারণেও যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের দাম বহুগুণ বেড়েছে।

    কারণ এই বাড়তি শুল্ক আমদানি করা বিভিন্ন পণ্যের মূল্য আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।

  7. সম্পূর্ণ একটি বদলে যাওয়া কংগ্রেস দেখলো আমেরিকানরা

    কোটি কোটি আমেরিকান আজ একটি পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন।

    আজকের এই ফলাফলের আগে আইন প্রণয়ণ এবং দেশব্যাপী প্রয়োগ করে যেই কংগ্রেস, সেটি রিপাবলিকান পার্টির নিয়ন্ত্রণে ছিল।

    কিন্তু ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দুই বছর পূর্ণ হওয়ার এই সময়ে ডেমোক্র্যাটরা বড় ধরনের বিজয় অর্জন করেছে।

    ডেমোক্র্যাটরা এখন কংগ্রেসের উভয় কক্ষ, হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস(নিম্নকক্ষ) এবং সেনেট (উচ্চকক্ষ) দুইটিরই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে। এমনকি বিগত কয়েক দশকের মধ্যে এই প্রথম তারা রিপাবলিকানদের ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত টেক্সাস ও কানসাসেও আসন ছিনিয়ে নিয়েছে।

  8. রিপাবলিকানদের পরাজয়ে ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া

    যুক্তরাষ্ট্রের এই মধ্যবর্তী নির্বাচন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি।

    যেহেতু সেনেট ও হাউস দু্ই জায়গাতেই ডেমোক্রেটরা বিজয়ী হয়েছে, তাই ট্রাম্পের বাকি মেয়াদের জন্য কংগ্রেসের উচ্চ ও নিম্নকক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে ডেমোক্রেটরা।

    ট্রাম্প যেভাবে এর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন:

    ইরান যুদ্ধ এবং জ্বালানির দাম:

    • ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে তাদের পরাজয়ের ক্ষেত্রে ইরান যুদ্ধ এবং জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ভূমিকা রেখেছে।
    • ফক্স নিউজকে তিনি বলেছেন, গ্যাসের অতিরিক্ত মূল্য রিপাবলিকান পার্টিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং যখন মানুষকে জ্বালানির জন্য বেশি টাকা দিতে হয়েছে, তখন তা মানুষ “পছন্দ করেনি।” একটি প্রধান ভোটার জরিপে দেখা গেছে, অর্থনীতিই ছিল ভোটারদের প্রধান ইস্যু।
    • নিউইয়র্ক টাইমসের সাথে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিতে প্রস্তুত তিনি। তবে ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুক্ত হওয়াকে তিনি “খুবই বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত” বলে মনে করেন।

    ‘আমি ব্যালটে ছিলাম না’

    • ট্রুথ সোশ্যাল এবং বিভিন্ন মিডিয়ার সাথে সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বারবার বলেছেন, ব্যালটে যদি তার নাম থাকতো তাহলে রিপাবলিকানরা জয়ী হতো।
    • নিউইয়র্ক টাইমসকে তিনি বলেন, “আমি নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে ছিলাম না এবং আমি না থাকার কারণেই আমরা পর্যাপ্ত মানুষকে ভোটকেন্দ্রে এনে ভোট দেওয়াতে পারিনি।”
    • ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্বীকার করেন, কয়েকজন রিপাবলিকান প্রার্থী “আরো ভালো হতে পারতেন”- যাদের মধ্যে হেরে যাওয়া কয়েকজন প্রার্থীকে প্রেসিডেন্ট নিজে সমর্থন দিয়েছিলেন।

    ‘ডেমোক্র্যাটরা ভালো কাজ করেছে’

    • ফক্স নিউজে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট স্বীকার করেছেন যে ডেমোক্র্যাটরা “ভালো কাজ করেছে।” তিনি আরো জানান, রিপাবলিকানরা “বিশাল বিশাল জনসভা” করার পরেও ডেমোক্রেটদের এই ফলাফলে “কিছুটা অবাক” হয়েছেন তিনি।
    • ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে ইচ্ছুক বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। যদিও কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের এই নিয়ন্ত্রণ ট্রাম্পের পরিকল্পনাগুলোকে বাধাগ্রস্ত করবে।
    • ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করার মতো “অনেক অনেক বিষয়” রয়েছে, তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে “ভেটো পাওয়ার বা ক্ষমতা” ব্যবহার করবেন তিনি।
  9. যে চারটি প্রথম ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে

    যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে এখনো মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোট গণনা চলছে। তবে এটি এরইমধ্যে ইতিহাস গড়ার একটি রাতও হয়ে উঠেছে।

    চারটি অঙ্গরাজ্যে এবার বেশ কিছু নতুন ইতিহাস যেটা প্রথমবারের মতো সৃষ্টি হয়েছে:

    আবদুল এল সাইয়েদ: মিশিগানে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল সাইয়েদ প্রথম মুসলিম মার্কিন সেনেটর হতে চলেছেন।

    কেইশা ল্যান্স বটমস: জর্জিয়ার গভর্নর পদে রিপাবলিকান প্রার্থী রিক জ্যাকসনকে হারিয়ে কেইশা ল্যান্স বটমস যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।

    ক্রিস পাপাস: সেনেটে দায়িত্ব পালনকারী প্রথম প্রকাশ্য সমকামী পুরুষ হতে চলেছেন নিউ হ্যাম্পশায়ারের ক্রিস পাপাস।

    ডেব হাল্যান্ড: ডেব হাল্যান্ড নিউ মেক্সিকোতে জয়লাভের মাধ্যমে প্রথম আদিবাসী আমেরিকান নারী গভর্নর নির্বাচিত হয়েছেন।

  10. রিপাবলিকানরা নেব্রাস্কা সেনেট আসন ধরে রাখবে বলে পূর্বাভাস

    নেব্রাস্কা সেনেট আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ড্যান অসবর্নকে পেছনে ফেলে রিপাবলিকান প্রার্থী পিট রিকেটস জয় ধরে রেখেছেন বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।

    ড্যান অসবর্ন ৪৩ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট পেয়েছেন অন্যদিকে পিট রিকেটস ৫০ দশমিক দুই শতাংশ ভোট পেয়েছেন।

  11. ‘নির্বাচনে হস্তক্ষেপকারী স্পেস লেজারগুলো এবার কাজ করেনি': মাস্ক

    যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে বড়ভাবে ছায়া ফেলেছেন দেশটির বিলিয়নেয়ার ব্যবসায়ী ইলন মাস্ক।

    নির্বাচনী অর্থায়ন পর্যবেক্ষণকারী স্বাধীন সংস্থা ওপেন সিক্রেটস এর তথ্য অনুযায়ী, রিপাবলিকান প্রার্থীদেরকে সমর্থন করার জন্য মধ্যবর্তী নির্বাচনে অন্তত ৪৫৫ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছেন তিনি।

    টেক্সাসের সেনেট নির্বাচনে, রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনকে সমর্থন করতে ২০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ করেছেন মাস্ক। যদিও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস ট্যালারিকোর কাছে হেরে গেছেন কেন প্যাক্সটন।

    কয়েক বছর আগে মাস্ক তার বাসস্থান এবং কিছু ব্যবসায়িক স্বার্থ এই রাজ্যে স্থানান্তর করেছিলেন।

    বিজয়ী ভাষণে, ট্যালারিকো তার সমর্থকদের বলেছেন যে, "আমরা এই রাজ্য এবং এই দেশের প্রত্যেক বিলিয়নিয়ার, প্রত্যেক ট্রিলিয়নিয়ার এবং এই রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রত্যেক দুর্নীতিগ্রস্ত রক্ষককে একটা বার্তা পাঠিয়েছি যে, ক্ষমতা জনগণের।"

    এর আগে, বেশ কয়েক ঘণ্টা নীরব থাকার পর নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ দেওয়া একটি পোস্টে মাস্ক লেখেন, "মনে হচ্ছে আমার নির্বাচনে হস্তক্ষেপকারী স্পেশ লেজারগুলো এবার কাজ করেনি।"

  12. যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সেনেট নির্বাচনে কোথায় কী অবস্থা?

    যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা টেক্সাস, ওহাইও এবং কানসাসসহ রিপাবলিকান ঘাঁটিগুলোতে একের পর এক বিজয় তুলে নিয়েছেন।

    ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিল্টনকে কানসাসের সেনেট আসনের বিজয়ী হিসেবে অনুমান করা হচ্ছে। এই রাজ্যে সর্বশেষ প্রায় ১০০ বছর আগে একজন ডেমোক্র্যাট নির্বাচিত হয়েছিলেন।

    সাবেক প্যারা অলিম্পিয়ান, ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জশ টুরেক, আইওয়া থেকে পরবর্তী মার্কিন সেনেটর হবেন বলে অনুমান করা হচ্ছে এবং রিপাবলিকান সেনেটর জনি আর্নস্টের নিয়ন্ত্রণে থাকা আসনটি তিনি দখল করবেন।

    মেইন রাজ্যের সেনেট আসনটি ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ট্রয় জ্যাকসনের কাছে যাবে, যিনি প্রায় ৩০ বছর ধরে আসনটিতে থাকা রিপাবলিকান বর্তমান সেনেটর সুসান কলিন্সের আসনটি দখল করবেন।

    ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আব্দুল এল-সাইয়েদ রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে অল্প ব্যবধানে হারিয়ে মিশিগান সেনেট আসনে জিতবেন বলে অনুমান করা হচ্ছে।

    এছাড়া ওহাইও রাজ্যের সেনেট আসনটি ডেমোক্র্যাট শেরড ব্রাউনের পক্ষে গেছে এবং টেক্সাসে, ডেমোক্র্যাট জেমস ট্যালারিকো সেনেট আসনটি দখল করেছেন।

    সাউথ ক্যারোলাইনায়, ডেমোক্র্যাট অ্যানি অ্যান্ড্রুস রিপাবলিকান প্রার্থী ডারলিন গ্রাহামকে পরাজিত করেছেন, যিনি প্রয়াত সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের বোন।

  13. মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া সম্পর্কে কী প্রভাব ফেলবে?, স্টিভ রোজেনবার্গ, রাশিয়া সম্পাদক

    যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল ক্রেমলিনের ওপর কী প্রভাব ফেলবে?

    "প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার মেয়াদের শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট থাকবেন এবং তার পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করবেন," প্রেসিডেন্ট পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সোমবার বিবিসিকে একথা জানিয়েছিলেন।

    অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, মস্কো স্বাভাবিক কাজকর্ম আশা করছে বলেই এই বার্তায় মনে হয়েছে।

    রাশিয়া ঠিক যা চেয়েছিল সেটি হয়তো দিতে পারেননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, অর্থাৎ নিজেদের শর্তে ইউক্রেন নিয়ে একটি চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি। বরং ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি ক্রেমলিনের জন্য অনেক ইতিবাচক ফল বয়ে এনেছে।

    সম্প্রতি কিছু রাশিয়া-বিরোধী নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট, রাশিয়ান ডিজেল কিনতে সম্মত হয়েছেন এবং ভ্লাদিমির পুতিনের চেয়ে ভলোদিমির জেলেনস্কির অনেক বেশি সমালোচনা করেছেন।

    কিন্তু এই সপ্তাহের শুরুতে রাশিয়ার নেজাভিসিমায়া গেজেতা পত্রিকা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল যে, রিপাবলিকানরা যদি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারায়, তাহলে ডোনাল্ড ট্রাম্প "ডেমোক্র্যাটদের শুরু করা অসংখ্য তদন্তে জড়িয়ে পড়বেন" এবং “রাশিয়া-বিষয়ক নীতিসহ তিনি যে নীতিগুলোকে সঠিক বলে মনে করেন, সেগুলো অনুসরণ করা তার পক্ষে সম্ভব হবে না।”

  14. মিশিগানের সেনেট আসনে জয়ের পথে এল-সাইয়েদ, পূর্বাভাস সিবিএসের

    সিবিএসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মিশিগানের সেনেট আসনটি ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদের দখলে যাচ্ছে।

    এর কিছু আগে বিজয়ের দাবি করে এল-সাইয়েদ সমর্থকদের বলেন, “আপনারা সবচেয়ে অসম্ভাব্য এক প্রার্থীর ওপর আস্থা রেখেছিলেন... মিশিগান, আপনাদের সেবা করার জন্য আমি আর অপেক্ষা করতে পারছি না।”

    এল-সাইয়েদ নির্বাচিত হলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে দায়িত্ব পালনকারী প্রথম মুসলিম হবেন।

  15. আমেরিকানরা ‘স্পষ্ট বার্তা’ দিয়েছে: বারাক ওবামা

    যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, তার দলের ব্যাপক বিজয় প্রমাণ করে যে আমেরিকানরা পরিবর্তন চায়।

    এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ওবামা লিখেছেন, “আজ রাতে আমেরিকান জনগণ একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। তারা এমন রাজনীতি চায় যা মানুষকে বিভক্ত করার বদলে একত্র করে, এবং এমন নেতাদের চায় যারা তাদের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলোর বাস্তবসম্মত সমাধান দিতে পারে।”

    মিশিগান ও জর্জিয়ার মতো দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যগুলোতে ওবামা বেশ কয়েকজন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন।

    তিনি আরও যোগ করেন, “এখন আমাদের কাজ হলো হাতা গুটিয়ে কাজে নেমে পড়া, যেখানে আমাদের ক্ষমতা আছে সেখানে পরিবর্তন আনা, আরও ক্ষতি প্রতিরোধ করা এবং ভবিষ্যতের জন্য ভিত্তি তৈরি করা।”

  16. এল-সাইয়েদের প্রচার সমাবেশে উচ্ছ্বাসের জোয়ার

    আবদুল এল-সাইয়েদ মঞ্চে উঠে নিজের দাবি করা বিজয় উদযাপন করতে গেলে তার সমর্থকেরা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন।

    উল্লেখ্য, ভোট গণনা এখনো চলছে এবং এখনো কোনো বিজয়ীর আনুষ্ঠানিক পূর্বাভাস ঘোষণা করা হয়নি।

    সমর্থকদের করতালি ও উল্লাসধ্বনি ছিল কানফাটানো। তারা আনন্দে তার নাম ধরে স্লোগান দিতে থাকেন।

    ইতিহাসের একটি সম্ভাব্য মুহূর্ত ধারণ করতে অসংখ্য মানুষ তাদের আইফোন উঁচিয়ে ধরেন। একজন মুসলিম ব্যক্তি সিনেটে নির্বাচিত হতে পারেন, এমন সম্ভাবনাকে ঘিরে সেখানে বিশেষ আবেগের সৃষ্টি হয়। জনতার মধ্যে অনেককে আবেগাপ্লুত হয়ে একে অপরকে আলিঙ্গন করতে দেখা যায়।

    কনসার্টের দর্শকদের মতো তারা তার স্লোগানগুলোও একসঙ্গে পুনরাবৃত্তি করছিলেন- “রাজনীতি থেকে অর্থের প্রভাব দূর করো, অর্থ রাখো মানুষের পকেটে, এবং সবার জন্য মেডিকেয়ার”।

    এল-সাইয়েদ উপস্থিত জনতাকে বলেন, তার বিরুদ্ধে পরিচালিত প্রচারণা তাদের জীবদ্দশায় দেখা সবচেয়ে কদর্য প্রচারণাগুলোর একটি ছিল। তিনি সমর্থনের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

    প্রগতিশীল রাজনৈতিক ধারার সমর্থকেরা তার এই সাফল্যকে বড় ধরনের বিজয় হিসেবে উদযাপন করছেন।

    তাদের একজন আমাকে বলেন, এখন থেকে তিনি আর কখনো শুনতে চান না যে প্রগতিশীলরা নির্বাচনে জিততে পারে না।

  17. মিশিগানে নিজের জয় দাবি করেছেন এল-সাইয়েদ

    মিশিগানে সেনেট নির্বাচনে নিজের বিজয় দাবি করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ। যদিও চূড়ান্ত ফলাফল এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

    সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেছেন, "আপনারা সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত একজন প্রার্থীর ওপর বাজি ধরেছিলেন।"

    সমর্থনের জন্য জনতাকে ধন্যবাদও জানান তিনি।

    "মিশিগান, আপনাদের সেবা করার জন্য আমি আর অপেক্ষা করতে পারছি না," একথা বলে তিনি তার প্রতিপক্ষের সমালোচনা করেন। কারণ, প্রতিদ্বন্দ্বীরা এমন একটি বিষয় সামনে এনে প্রচারণা চালিয়েছিল, যেখানে তার মুসলিম ধর্মবিশ্বাসকে কেন্দ্রীয় বিষয় বানানো হয়েছিল।

    তিনি বলেন, "তারা দীর্ঘদিনের মধ্যে দেখা সবচেয়ে কুৎসিত প্রচারণাগুলোর একটিতে সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল," অভিযোগ করে বলেন তারা তাকে আক্রমণ করেছে "আমার নাম এবং আমার বিশ্বাসের কারণে"।

    "তারা এমন এক আমেরিকা চেয়েছিল যা আমাদের কারো কারো জন্য খুব ছোট। আমরা জানি এটা এমন এক আমেরিকা যা আমাদের সবার জন্য যথেষ্ট বড়," বলেন তিনি।

    এল-সাইয়েদের সঙ্গে রিপাবলিকান মাইক রজার্সের লড়াইয়ের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল এখনও সামনে আসেনি।

    এর আগে, রজার্স তার সমর্থকদের বাড়ি যেতে অনুরোধ করেছিলেন কারণ, তার মতে "এটা একটা দীর্ঘ রাত হতে চলেছে"।

    রজার্স বলেছিলেন, "আমাদের এই নির্বাচনে জেতার একটা পথ আছে।" "বাড়ি গিয়ে ঘুমিয়ে নিন, আর যখন জেগে উঠবেন তখন দেখবেন আপনি বিজয়ী।"

  18. মিশিগানে এগিয়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ

    বিবিসির যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অংশীদার সিবিএস নিউজের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জোসেলিন বেনসন মিশিগানের গভর্নর নির্বাচনে জয়ী হতে যাচ্ছেন। এর ফলে গভর্নর পদটি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নিয়ন্ত্রণেই থাকবে।

    অন্যদিকে, অঙ্গরাজ্যটির সেনেট নির্বাচন এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ এবং রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের মধ্যকার এ প্রতিদ্বন্দ্বিতার ফল এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

    এ পর্যন্ত ৭৮ শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছে এবং তাতে এল-সাইয়েদ এগিয়ে রয়েছেন। জয়ী হলে তিনি দেশটির প্রথম মুসলিম সেনেটর হতে পরেন।

  19. মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিজয়ের রাত যেভাবে উদযাপন করছেন ডেমোক্র্যাটরা

    ডেমোক্র্যাটদের জন্য আজকের রাতটি একটি ঐতিহাসিক রাত হয়ে উঠছে, কারণ দলটি মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ জয় করেছে এবং সেনেটের নিয়ন্ত্রণও নিজেদের হাতে আনার পথে রয়েছে।

    এরই মধ্যে বিভিন্ন জায়গায় জয় উদযাপন করছেন দলটির সমর্থকরা, যার কয়েকটি ঝলক দেখুন ছবিতে-

  20. ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেলে কী হবে?, সাকশি ভেঙ্কটরামন, ওয়াশিংটন ডিসি

    সেনেট এবং প্রতিনিধি পরিষদ উভয় ক্ষেত্রেই ডেমোক্র্যাটরা এখন সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

    এর অর্থ হলো, জানুয়ারি থেকে তারা আবার কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে ফিরে আসবে, যা দেশটির আইন প্রণয়নের দায়িত্বে থাকা সরকারি শাখা।

    কংগ্রেসের উভয় কক্ষই বর্তমানে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যেখানে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিরঙ্কুশ।

    কিন্তু ডেমোক্র্যাটরা যখন কংগ্রেস ফিরে পাবে, তখন তারা আরও সহজে আইন পাস করতে পারবে এবং প্রেসিডেন্টের এজেন্ডাকে চ্যালেঞ্জ করতে পারবে।

    এমনকি প্রেসিডেন্টের প্রশাসনের সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্তও শুরু করতে পারবে তারা।

    এটি একটি বড় পরিবর্তন এবং ট্রাম্প তার মেয়াদের শেষ দুই বছরে প্রবেশ করার মুহূর্তে এই জয়টিই আশা করছিল ডেমোক্র্যাটরা।