ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর খেরসন 'পুরোপুরি রুশ দখলে'

ইউক্রেনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ শহরের আবাসিক এলাকাগুলোতে রাশিয়া তাদের বোমাবর্ষণ জোরালো করেছে। বন্দরনগরী মারিওপোল এবং খারকিভ ঘিরে রেখেছে রাশিয়ার সৈন্যরা। রাশিয়ার সৈন্যরা দাবি করছে, দক্ষিণের খেরসন এলাকাও তাদের নিয়ন্ত্রণে

সরাসরি কভারেজ

আকবর হোসেন and পুলক গুপ্ত

  1. বিদেশি মুদ্রা ক্রয় করতে হলে রাশিয়ায় ৩০ শতাংশ কমিশন দিতে হবে

    রাশিয়ার মুদ্রা রুবলের দরপতন ঠেকাতে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক নানা পদক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে।

    রাশিয়ার নাগরিকরা যাতে রুবল বিক্রি করে বিদেশী মুদ্রা কিনতে না পারে সেজন্য ৩০ শতাংশ কমিশন আরোপ করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, বিদেশী মুদ্রা কিনতে গেলে রাশিয়ায় ৩০ শতাংশ কমিশন দিতে হবে।

    এর ফলে বিদেশী মুদ্রা ক্রয় ব্যয়বহুল হবে এবং অনেকে বিদেশী মুদ্রা ক্রয় করতে নিরুৎসাহিত হবে।

    রুবলের দরপতন ঠেকাতে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এর আগে রাশিয়া থেকে বিদেশে অর্থ পাঠানোর উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন।

    রুবল
    ছবির ক্যাপশান, রাশিয়ার মুদ্রা রুবলের ব্যাপক দরপতনে দেশটির মানুষ হতাশ।
  2. ইউক্রেনে রকেট হামলায় নিহত বাংলাদেশি নাবিকের মরদেহ জাহাজেই আছে

    ইউক্রেনের অলিভিয়া বন্দরে বাংলাদেশি জাহাজে রকেট হামলায় নিহত থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমানের মরদেহ জাহাজের ভেতরেই ফ্রিজিং করে রাখা হয়েছে।

    বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের নির্বাহী পরিচালক পীযুষ দত্ত চট্টগ্রামে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন।

    জাহাজটিতে নাবিক এবং ইঞ্জিনিয়ারসহ এখনো আটাশ জন অবস্থান করছেন।

    কর্মকর্তারা বলছেন, এই মুহুর্তে জাহাজটি বন্দর ছেড়ে যাওয়া নিরাপদ নয়।

    নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সবাইকে জাহাজে অবস্থান করার জন্য পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

    মি. দত্ত জানিয়েছেন জাহাজটিতে এক মাসের খাদ্য মজুত রয়েছে।

    বাংলার সমৃদ্ধি নামের এই জাহাজটি ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সেখানে আটকে পড়ে।

    মাত্র কয়েকদিন আগে জাহাজের একজন নাবিক বিবিসি বাংলাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে দেশে ফিরে আসার জন্য তাদের তীব্র আকুতির কথা জানিয়েছিলেন।

    বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজটির মালিক বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন।

    গত ২৬শে জানুয়ারি এটি ভারতের মুম্বাই বন্দর থেকে যাত্রা করে এবং তুরস্কের ইরেগলি হয়ে ২২শে ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরের বহির্নোঙ্গরে পৌঁছায়।

    জাহাজটি বন্দরে পৌঁছানোর পরদিন ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরু হয়।

    হাদিসুর রহমান
    ছবির ক্যাপশান, হাদিসুর রহমান
  3. ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে সর্বশেষ

    রাশিয়ার সৈন্যরা ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী খারসন নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এক সপ্তাহ আগে হামলা শুরুর পর এই প্রথম কোন বড় শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে রাশিয়ার সৈন্যরা।

    গত কয়েক ঘণ্টায় ব্যাপক বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে রাজধানী কিয়েভ এবং আরো কিছু শহর। বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে বিশাল অগ্নিকুণ্ডে শহরের আকাশ জ্বলে উঠেছে।

    আমেরিকার প্রতিরক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা বলছে, রাশিয়ার ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ সামরিক বহর কিয়েভ শহরের কাছাকাছি আসার পর অনেকটা থমকে আছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এই সামরিক বহরে খাদ্য এবং জ্বালানির সংকট দেখা দিয়েছে।

    এ প্রথমবারের মতো রাশিয়া স্বীকার করেছে যে ইউক্রেনে হামলা শুরুর পর থেকে তাদের ৪৯৮জন সৈন্য নিহত হয়েছে। এছাড়া আরো ১৫৯৭ জন আহত হয়েছে।

    জাতিসংঘ বলছে রাশিয়ার হামলা শুরুর পর থেকে ইউক্রেন ছেড়ে প্রায় ১০ লাখ মানুষ পালিয়েছে। এ সংখ্যা দ্রুত আরো বাড়ছে।

    ইউক্রেনে রাশিয়ার সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ তদন্ত শুরু করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত।

    খারকিভ
    ছবির ক্যাপশান, রাশিয়ার বোমাবর্ষণে খারকিভ শহরের কেন্দ্রস্থলের চিত্র।
    ব্রিজ
    ছবির ক্যাপশান, রাশিয়ার সামরিক বহর রাজধানী কিয়েভে আসা ঠেকাতে একটি ব্রিজ ধ্বংস করে দিয়েছে ইউক্রেনের বাহিনী।
    কিয়েভ
    ছবির ক্যাপশান, কিয়েভ শহরে অবস্থানরত ইউক্রেনের সেনা সদস্যরা।
  4. জাতিসংঘে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিন্দা, ভোটদানে বিরত ছিল বাংলাদেশ

    ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলাকে নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একটি প্রস্তাব পাশ হয়েছে।

    ইউক্রেন ইস্যুতে দুইদিন টানা বিতর্কের পর এ ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    জাতিসংঘের সদস্য ১৯৩টি রাষ্ট্রের মধ্যে ১৪১টি রাষ্ট্র নিন্দা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে।

    এছাড়া বিপক্ষে ভোট দিয়েছে পাঁচটি দেশ এবং ভোট দেয়ায় বিরত ছিল ৩৫টি দেশ।

    যেসব দেশ ভোট দেয়ায় বিরত ছিল তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে – বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, শ্রীলংকা, চীন, ভিয়েতনাম , ইরাক, ইরান, কিউবা এবং দক্ষিণ আফ্রিকা।

    এ প্রস্তাবের বিপক্ষে যে পাঁচটি দেশ ভোট দিয়েছে তারা হলো – বেলারুশ, উত্তর কোরিয়া, সিরিয়া, ইরিত্রিয়া এবং রাশিয়া।

    এই প্রস্তাবের মাধ্যমে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার নিন্দা জানানো হয়েছে এবং সেখান থেকে সৈন্য সরিয়ে নেবার কথা বলা হয়েছে।

    যেসব দেশ প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে কিংবা ভোট দেয়া থেকে বিরত ছিল , তাদের সবার সাথে রাশিয়ার ভালো কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে।

    জাতিসংঘে নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত লিন্ডা টমাস গ্রিনফিল্ড ভোটাভুটির আগে বলেন, “জাতিসংঘের যে কোন সদস্য রাষ্ট্রের এবং আপনার দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতায় যদি আপনি বিশ্বাস করেন তাহলে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিন।”

    যদিও সাধারণ পরিষদের পাশ হওয়া এই প্রস্তাব মেনে চলার ক্ষেত্রে কোন আইনগত বাধ্যবাধকতা নেই।

    জাতিসংঘে নিযুক্ত ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত বলেছেন, রাশিয়ার সৈন্যরা শুধু দখল করতে আসেনি। এটা এক ধরণের গণহত্যা।

    ২৪শে ফেব্রুয়ারি থেকে রাশিয়া পুরোদমে হামলা শুরু করেছে ইউক্রেনে। মস্কো দাবি করছে, জাতিসংঘ সনদের ৫১ ধারা অনুযায়ী আত্মরক্ষার জন্য অভিযান পরিচালনা করছে রাশিয়ার সৈন্যরা।

    ইউক্রেন রাষ্ট্রদূত
    ছবির ক্যাপশান, জাতিসংঘে ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত রাশিয়ার বিপক্ষে প্রমাণ তুলে ধরছেন।
    জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত
    ছবির ক্যাপশান, জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত
    জাতিসংঘে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত
    ছবির ক্যাপশান, জাতিসংঘে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত
    জাতিসংঘ
    ছবির ক্যাপশান, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বিশেষ অধিবেশনে ভোটে অংশ নেয় সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা।
  5. কিয়েভ থেকে বেসামরিক মানুষ সরে যেতে চাইলে বাধা দেবে না রাশিয়া

    রাশিয়ার কর্মকর্তারা বলছেন, ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ শহরের বাসিন্দাদের সেখান থেকে সরে যাওয়ার সময় রাশিয়ার সৈন্যরা কোন প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে না।

    ৪০ মাইল দীর্ঘ রাশিয়ার একটি সামরিক বহর এখন কিয়েভ শহর থেকে ২০ মাইল দূরে রয়েছে।

    রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, কিয়েভ শহর থেকে বাসিন্দারা যাতে বের হতে পারে সে সুযোগ দেয়া হবে।

    "বেসামরিক নাগরিকরা শহর ছেড়ে যাবার সময় রাশিয়ার সৈন্যরা কোন প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে না,” বলেন মেজর জেনারেল কোনাসনেকভ।

    তার এই বার্তা রাশিয়ার একটি টিভি চ্যানেলে দেখানো হচ্ছে।

    কিয়েভ শহর খালি করে দেবার জন্য দ্বিতীয়বারের মতো রাশিয়া প্রস্তাব দিয়েছে।

    তবে রাশিয়ার কর্মকর্তারা যে পথ ধরে শহর থেকে বেসামরিক জনগণকে বেরিয়ে যাবার প্রস্তাব দিয়েছেন, সে পথে কয়েকদিন আগেও রাশিয়ার সৈন্যরা ব্যাপক গোলাবর্ষণ করেছে।

    কিয়েভ
    ছবির ক্যাপশান, কিয়েভ শহর ছেড়ে অনেকেই চলে গেছে। বাকিদেরও চলে যেতে বলছে রাশিয়া।
  6. রাশিয়ার হামলায় প্রথম সাতদিনে যা ঘটছে

    ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা এখন সাতদিনে পৌঁছেছে। সাতদিনের মাথায় এসে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরের আবাসিক এলাকাগুলোতে রাশিয়ার বোমা হামলা জোরদার হয়েছে।

    ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ শহর খারসন দখল করেছে রাশিয়ার সৈন্যরা। সেখানকার মেয়র এ তথ্য জানিয়েছেন।

    খারসন হচ্ছে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ শহর যেটি রাশিয়ার সৈন্যরা দল করে নিয়েছে।

    শহরের মেয়র জানিয়েছেন, রাশিয়ার সৈন্যরা সিটি কাউন্সিল ভবনে জোরপূর্বক প্রবেশ করেছে এবং বাসিন্দাদের উপর কারফিউ জারি করেছে।

    বিবিসির যাচাই করা একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, খারসন শহরের কেন্দ্রস্থলে রাশিয়ার সৈন্যরা রয়েছে।

    অন্যদিকে ইউক্রেনের বাহিনী বলছে, রাশিয়ার প্যারাট্রুপার খারকিভ শহরে নেমেছে।

    সেখানকার রাস্তায় ইউক্রেনের সৈন্যদের সাথে রাশিয়ার সৈন্যদের লড়াই চলছে।

    মারিওপোল এবং খারকিভ শহর ঘিরে রেখেছে রাশিয়ার সৈন্যরা।

    মারিওপোল শহরের ডেপুটি মেয়র বলেছেন, শহরটিতে ১৫ঘণ্টার বেশি সময় যাবত একটানা বোমা বর্ষণ করা হয়েছে।

    ফলে সেখান পরিস্থিতি এখন মানবিক বিপর্যয়ের কাছাকাছি।

    একটি আবাসিক অঞ্চলে কয়েকশ মানুষ নিহত হয়েছে বলে ডেপুটি মেয়র আশংকা করছেন। নিহতদের মধ্যে তার বাবাও রয়েছেন।

    খারকিভ
    ছবির ক্যাপশান, খারকিভ শহরের কেন্দ্রস্থল
  7. সরাসরি আয়োজনে আপনাকে স্বাগতম

    ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার সর্বশেষ খবরাখবর জানাতে রিপোর্ট করছেন আকবর হোসেন।