পাকিস্তানের যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত, ৩৭ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ, তিনজন জীবিত

টিভি ফুটেজে উদ্ধার কর্মীদের দেখা যাচ্ছে ধ্বংসস্তুপের ভেতর থেকে উদ্ধারের কাজ চালাতে
ছবির ক্যাপশান, টিভি ফুটেজে উদ্ধার কর্মীদের দেখা যাচ্ছে ধ্বংসস্তুপের ভেতর থেকে উদ্ধারের কাজ চালাতে
Published
পড়ার সময়: ২ মিনিট

পাকিস্তানের একটি যাত্রীবাহী বিমান করাচিতে বিধ্বস্ত হয়েছে।

পিআইএর জেট বিমান এ-৩২০ লাহোর থেকে যাত্রী ও ক্রু মিলিয়ে ৯৯জনকে নিয়ে করাচি যাচ্ছিল। করাচির একটি আবাসিক এলাকায় বিমানটি ভেঙে পড়ে।

সরকারি কর্মকর্তারা এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৭ জন মারা গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন এবং তিনজন আরোহী জীবিত আছেন বলে জানাচ্ছেন। কিন্তু অনেক হতাহত আশংকা করা হচ্ছে। কারণ উদ্ধার কাজ চলছে ।

পাকিস্তানের বিমান চলাচল কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন পাকিস্তান ইন্টারন্যাশানাল এয়ারলাইন্সের (পিআইএ) বিমানটিতে ৯১ জন যাত্রী এবং আটজন বিমান কর্মী ছিলেন। লাহোর থেকে বিমানটি যাত্রা শুরু করে পাকিস্তানের অন্যতম ব্যস্ত একটি বিমানবন্দর করাচির জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাচ্ছিল।

বিমানবন্দর থেকে বিমানটি মাত্র প্রায় এক মিনিটের দূরত্বে ছিল।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করা ছবিতে দেখা যাচ্ছে করাচির যে আবাসিক এলাকায় বিমানটি ভেঙে পড়েছে সেখান থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলি উঠছে।

ভিডিওর ক্যাপশান, করাচির আবাসিক এলাকায় যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত

উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। এলাকার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

"বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে করাচিতে, আমরা ঠিক কতজন যাত্রী বিমানে ছিল তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। কিন্তু প্রাথমিকভাবে বিমানে ৯৯জন যাত্রী এবং আটজন ক্রু ছিলেন," জানাচ্ছেন পাকিস্তান বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র আবদুল সাত্তার খোখার।

বিমানটি করাচির জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করতে যাচ্ছিল। বিমানবন্দরের প্রায় দুই মাইল উত্তর পূর্বে করাচির মডেল কলোনি নামে একটি এলাকায় বিমানটি ভেঙে পড়ে।

করাচির আবাসিক এলাকা যেখানে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে
ছবির ক্যাপশান, করাচির আবাসিক এলাকা যেখানে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে

টিভি ফুটেজ থেকে দেখা গেছে এলাকার বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একজন প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ উজায়ের বিবিসি উর্দু বিভাগকে জানিয়েছেন বিকট আওয়াজ শুনে তিনি বাইরে বেরিয়ে আসেন।

"প্রায় চারটি বাড়ি পুরো বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। প্রচুর ধোঁয়া আর আগুন জ্বলছে। ওরা আমার প্রতিবেশি। ভয়ঙ্কর দৃশ্য।"

আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী ড. কানওয়াল নাজিম বিবিসি ঊর্দুকে বলেছেন তিনি মানুষের চিৎকার শুনতে পাচ্ছেন। এবং মসজিদ লাগোয়া তিনটি বাড়ি থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলি দেখা গেছে।

সরু রাস্তার জন্য উদ্ধারকাজের জন্য যানবাহন এবং অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছতে বেগ পেতে হচ্ছে। প্রচুর মানুষ সেখানে জড়ো হয়েছে।

পাকিস্তান সেনা বাহিনী বলেছে তাদের দ্রুত মোকাবেলা বাহিনীর সৈন্যরা দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে উদ্ধার কাজে সহায়তার জন্য।

ভিডিওর ক্যাপশান, পাকিস্তানের করাচিতে ভেঙে পড়েছে যাত্রীবাহী বিমান

স্থানীয় হাসপাতালগুলোয় জরুরিকালীন অবস্থা জারি করা হয়েছে।

করোনাভাইরাস লকডাউনে বন্ধ থাকার পর মাত্র কয়েকদিন আগে দেশটিতে বাণিজ্যিক বিমান চলাচল আবার শুরু হয়েছে।

রমজানের শেষে ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতিতে অনেকেই এখন শহরে ও গ্রামে তাদের বাড়িতে যাচ্ছে।

দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি। পিআইএ-র প্রধান নির্বাহী এয়ার ভাইস মার্শাল আরশাদ মালিক বলছেন পাইলট ট্রাফিক কন্ট্রোলকে জানিয়েছিলেন যে বিমানে "যান্ত্রিক ত্রুটি" দেখা যাচ্ছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন তিনি দুর্ঘটনার খবরে "মর্মাহত এবং দু:খিত" এবং অবিলম্বে ঘটনার তদন্তের প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছেন।

Skip X post
X কনটেন্টের জন্য কি অনুমতি দেবেন?

এই নিবন্ধে Xএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত X কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।

সতর্কবাণী: তৃতীয়পক্ষের কন্টেন্টে বিজ্ঞাপন থাকতে পারে

End of X post

পাকিস্তানের দুনিয়া নিউজ সংবাদ সংস্থা ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে পাইলটের কথোপকথনের রেকর্ড হাতে পেয়েছে এবং liveatc.net নামেএকটি মনিটরিং ওয়েবসাইটে সেটা পোস্ট করেছেন।

এই কথোপকথনে পাইলটকে বলতে শোনা গেছে তারা ''দুটি ইঞ্জিন হারিয়েছে''। কয়েক সেকেন্ড পরে তাকে বলতে শোনা যায় "মে-ডে, মে-ডে, মে-ডে"। এরপর সব সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

পাকিস্তানের বিমান নিরাপত্তা রেকর্ড

২০১০ সালে, বেসরকারি বিমান সংস্থা এয়ারব্লু পরিচালিত একটি বিমান বিধ্বস্ত হয় ইসলামাবাদের কাছে। ওই দুর্ঘটনায় ১৫২জন যাত্রীর সবাই মারা যায়। সেটি ছিল পাকিস্তানের বিমান চলাচলের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা।

২০১২ সালে, পাকিস্তানের ভোজা এয়ার পরিচালিত বোয়িং ৭৩৭-২০০ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় রাওয়ালপিণ্ডিতে অবতরণ করার সময় বিধ্বস্ত হয়। ১২১জন যাত্রী এবং ছয়জন ক্রু-র সবাই প্রাণ হারান।

আর ২০১৬ সালে, পাকিস্তান ইন্টারন্যাশানাল এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চল থেকে ইসলামাবাদ যাবার সময় আগুন ধরে যায় ও বিমানটি বিস্ফোরিত হয়ে ৪৭জন মারা যায়।