নেতানিয়াহু নয়, ইসরায়েলে সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেন বিরোধী নেতা আইজেনকোট

Published
পড়ার সময়: ৩ মিনিট

ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, বিরোধীদলীয় নেতা গাদি আইজেনকোটকে নতুন জোট সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হবে।

গত সপ্তাহের নির্বাচনে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কিংবা আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন কোনো জোটই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।

এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করেন।

এখন নতুন সরকার গঠনের জন্য আইজেনকোট ২৮ দিন সময় পাবেন। তবে প্রয়োজনে এই সময়সীমা আরও ১৪ দিন বাড়ানো হতে পারে।

সাবেক এই সেনাপ্রধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, "এখন একটি জাতীয় জরুরি সরকার গঠনের সময়। আমরা যেন সেই দায়িত্ব পালনের যোগ্য হতে পারি, তা নিশ্চিত করতে আমি সবকিছু করব"।

ইসরায়েলে কোনো রাজনৈতিক দলই কখনো এককভাবে পার্লামেন্টে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে দেশটিতে এ পর্যন্ত গঠিত সব সরকারই ছিল জোট সরকার।

নেতানিয়াহুর ডানপন্থী লিকুদ পার্টি এবং তাদের কট্টর ডানপন্থী ও অতি-রক্ষণশীল ইহুদি মিত্ররা ১২০ আসনের নেসেটে ৫৩টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে, আইজেনকোটের মধ্যপন্থী ইয়াশার পার্টি এবং তাঁর জোটের অন্য তিনটি ইহুদি বিরোধী দল পেয়েছে ৪৮টি আসন।

আরব নেতৃত্বাধীন দুটি জোট—ইউনাইটেড আরব লিস্ট ও জয়েন্ট লিস্ট—মিলিয়ে পেয়েছে রেকর্ড ১৯টি আসন। আরব ভোটারদের মধ্যে ভোট দেওয়ার হার বেড়ে যাওয়ায় তারা এই সাফল্য পেয়েছে।

এর ফলে সরকার গঠনে তারাই কিংমেকার হয়ে ওঠতে পারে। তবে নির্বাচনের আগে ইহুদি দলগুলোর মধ্যে একটি ছাড়া বাকি সব দলই আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট সরকার গঠন না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

হারজগ বলেছেন, সপ্তাহজুড়ে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার পর তিনি সরকার গঠনের প্রথম সুযোগ আইজেনকোটকেই দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এ সিদ্ধান্তের কথা আইজেনকোট ও নেতানিয়াহু—দুজনকেই জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নবনির্বাচিত নেসেট সদস্যদের প্রতিনিধিদলগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর আইজেনকট প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পক্ষে ৬৭টি সুপারিশ পেয়েছেন। অন্যদিকে, নেতানিয়াহু পেয়েছেন ৪৬টি।

জোট সরকার গঠনের ক্ষেত্রে কার সবচেয়ে ভালো সম্ভাবনা রয়েছে, তা বিবেচনা করে কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার ব্যাপারে প্রেসিডেন্টের ব্যাপক স্বাধীনতা রয়েছে। সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দলের নেতাকেই যে দায়িত্ব দিতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

নির্বাচনের ফলাফল থেকে সরকার গঠনের তিনটি সম্ভাব্য পথের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল।

এর মধ্যে রয়েছে নেতানিয়াহু ও আইজেনকোটকে নিয়ে জাতীয় ঐক্যের সরকার, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে ডানপন্থী জোট—যেখানে আইজেনকোটের জোট থেকে কয়েকজন সদস্য বেরিয়ে এসে যোগ দেবেন অথবা আরব দলগুলোর সমর্থনে আইজেনকোটের নেতৃত্বে সরকার গঠন।

আইজেনকট এবং তার জোটের একজন ছাড়া বাকি সব সদস্যই আগে আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। তবে এ বিষয়ে সমঝোতা হতে পারে বলে জল্পনা রয়েছে।

তিনি অতি-রক্ষণশীল ইহুদি দলগুলোর সঙ্গেও সমঝোতার চেষ্টা করতে পারেন। তবে সেই পথও সহজ হবে না।

ইসরায়েলে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের নজির রয়েছে। ২০২০ সালে পরপর তিনটি নির্বাচনে অচলাবস্থার পর নেতানিয়াহু ও তার মধ্যপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী বেনি গান্তজ ক্ষমতা ভাগাভাগির চুক্তিতে সম্মত হয়েছিলেন।

ওই চুক্তি অনুযায়ী, পালাক্রমে দুজনের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল।

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার সময় হারজগ বলেছিলেন, আরেকটি নির্বাচন এড়ানো এবং একটি স্থিতিশীল সরকার গঠনের জন্য তিনি আশা করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দলগুলো ও তাদের প্রতিনিধিরা বুঝতে পারবেন যে, সব প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার পূরণ করা সম্ভব নয়।

২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সময়টি ছিল ইসরায়েলের রাজনীতিতে সবচেয়ে বেশি বিভক্ত সময়গুলোর একটি। ওই সময়ে নেতানিয়াহু ও তার প্রতিদ্বন্দ্বীরা বারবার সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় পাঁচবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।